Home মতামতকার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোন পথ কি খোলা রেখেছে সরকার?

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোন পথ কি খোলা রেখেছে সরকার?

"মিথ্যা হত্যা মামলায় আসামী, মব সৃষ্টি করে হত্যা, আদালতে বিচার নেই, বাড়ি ছাড়া, পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, রাজনৈতিক ট্যাক দিয়ে পুলিশি হয়রানী, নিরাপত্তাহীনতায় ঘরে ফেরার সকল পথ বন্ধ"

by The Daily Timeline
0 comments

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিকূলতা, সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় দমন এখন নতুন কিছু নয়। তবে সময়ে-অসময়ে কিছু ঘটনা সামনে আসে, যা সাধারণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক সঙ্কটের রুপ ধারণ করে। ইউনূস সরকারের নেতৃত্বে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমনই এক চিত্র উঠে আসছে- যেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক শত্রুতার জন্য নয়, বরং নিঃশেষ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

আজ যারা রাস্তায় নেমেছেন, তারা কেউ জন্মগতভাবে রাজপথের সংগ্রামী নয়। তাদের সবাই রাজনীতি দিয়ে জীবন শুরু করেনি। বরং পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্য দিয়েই জীবন শুরু করেছিলো। কিন্তু রাষ্ট্র যখনই একপক্ষীয় হয়ে ওঠে, বিচারব্যবস্থা যখন শাসকের ইচ্ছায় পরিচালিত হয়, এবং বিরোধী মতকে দমন করার জন্য ‘মব জাস্টিস’ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়, তখন মানুষ আর চুপ থাকতে পারে না।

▪️মিথ্যা মামলার ছোবল

গত ১৩ মাস ধরে শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থক ঢালাওভাবে মিথ্যা হত্যা মামলার আসামী হিসেবে তালিকাভুক্ত। তাদের অপরাধ- তারা হয়তো রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, অথবা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের সমর্থক ছিলেন। একেকজনের নামে একাধিক মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা, এমনকি বিচার শুরুর আগেই সামাজিকভাবে ‘দোষী’ ঘোষণা করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং মব সৃষ্টি করা! এসব আজ চরম বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

▪️জনতা বনাম বিচার?

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পরিকল্পিত ‘মব সাইকোলজি’ তৈরি করে কিছু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে! কোন তদন্ত ছাড়াই, প্রমাণ ছাড়াই, কেবল সন্দেহের বশে বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে। রাষ্ট্রের নীরব সম্মতিতে এমন জনতা-সৃষ্ট নৃশংসতা আমাদের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

▪️বিচ্ছিন্নতা, ভয় আর পালিয়ে থাকা জীবন

একের পর এক মামলা, হুমকি, হয়রানি এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়ে বহু পরিবার আজ ছিন্নভিন্ন। ১৩ মাস ধরে অনেকে পলায়নপর জীবন কাটাচ্ছেন! নিরাপত্তার অভাবে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না, সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না, এমনকি কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেও ভয় পাচ্ছেন। এ যেন এক জীবন্ত দুঃস্বপ্ন, যার শেষ কোথায় কেউ জানে না।

▪️রাস্তায় নামাই প্রতিবাদের শেষ ঠিকানা

এমন বাস্তবতায়, যারা আজ রাজপথে নেমেছেন, তারা আসলে প্রতিরোধের পথেই পা বাড়িয়েছেন। রাষ্ট্র যখন আইনের অপব্যবহারে নাগরিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেলে দেয়, তখন মিছিল-মানববন্ধন-প্রতিবাদই হয়ে ওঠে শেষ অবলম্বন। ইউনূস সরকারের বর্তমান আচরণ, তাদের জন্য আর কোনো বিকল্প রাখেনি।

▪️রাষ্ট্রের দায়িত্ব কী?

কোনো সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তা সে যে দল বা মতেরই হোক না কেন। কিন্তু যখন সরকার নিজেই নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে যায়, তখন প্রশ্ন ওঠে-এই রাষ্ট্র আসলে কার?

আজ যারা পথে, তারা কেবল রাজনৈতিক কর্মী নয় – তারা একজন পিতা, একজন ভাই, একজন প্রতিবেশী, একজন শিক্ষক কিংবা একজন ব্যবসায়ী। তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা শুধু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাই নয়, মানবিক বিপর্যয়ও বটে।

▪️শেষ কথা

ইউনূস সরকারের প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ, বিচারহীনতা এবং জনমতকে উপেক্ষা করে চলা নীতিই আজ পরিস্থিতিকে এখানে নিয়ে এসেছে। ইতিহাস সাক্ষী, মানুষের প্রতিবাদের পথ কখনো রুদ্ধ করা যায় না। যারা আজ পথে, তারা কেবল নিজেদের মুক্তির জন্য নয়, একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায্য ও মানবিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশায় লড়ছেন।

রাষ্ট্র যদি নিজ দায়িত্বে ফেরে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, এবং বিরোধী মতকে দমন নয় বরং সংলাপে জায়গা করে দেয়- তবেই হয়তো এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। নতুবা সামনে যে দিন আসছে, তা কারো জন্যই সুখকর হবে না।

লেখক: মোঃ মাইন উদ্দিন (সাগর)
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনফো বাংলা।

You may also like

Leave a Comment

About Us

Feature Posts

©2025 – All Right Reserved to The Daily Timeline.

Designed and Developed by Netfie.com