বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নাম বারবার উচ্চারিত হয়। একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এ দলটির দীর্ঘ ইতিহাস, সাফল্য ও ত্যাগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—দলটি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, জনআস্থা সংকটে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় জর্জরিত।
আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি দল হিসেবে খারাপ নয়; তবে দলটির ভেতরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল, অপেশাদার ও নেতৃত্ববিহীন গোষ্ঠী এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, যা জনমানসে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এই গোষ্ঠীই দলটির আদর্শিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিএনপির ইতিবাচক শক্তি:
বাংলাদেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী বিএনপিকে এখনও বিশ্বাস করে। দলটি অতীতে গণতন্ত্রের প্রশ্নে আন্দোলন করেছে, যার মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষা পেয়েছে। সংগঠন হিসেবে বিএনপির বিস্তৃতি এখনও সারাদেশে রয়েছে।
বিএনপির বর্তমান সংকট:
দলীয় নেতৃত্বে দূরদর্শিতার ঘাটতি, যা রাজনৈতিক কৌশলে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়। সহিংস ও উগ্র রাজনীতির চর্চা দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভক্তি ও কোন্দল—উপ-নেতৃত্ব ও তৃণমূলের মাঝে সংযোগের অভাব রয়েছে।
আস্থা ফিরিয়ে আনার উপায়:
বিএনপির উচিত একটি বাস্তবভিত্তিক সংস্কারপন্থা গ্রহণ করা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে: নতুন, তরুণ ও চিন্তাশীল নেতৃত্বকে জায়গা দেওয়া উগ্রতা ও হঠকারিতা পরিহার করে পরিণত রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ গণমুখী ভাষ্য ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে গণসংলাপের ওপর জোর দেওয়া
ভবিষ্যতের পথ:
বাংলাদেশের গণতন্ত্রে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের প্রয়োজন কখনো এত বেশি ছিল না। বিএনপি যদি আত্মসমালোচনা করে নিজেদের অভ্যন্তরীণ গঠন পুনর্গঠন ও আদর্শিক অবস্থানে সুসংহত হয়—তবে জনগণ আবারও তাদের গ্রহণ করতে পারে।
উপসংহার:
আমি বিশ্বাস করি, বিএনপির রাজনীতিতে এখনও সম্ভাবনা রয়েছে—শর্ত একটাই, দলকে উচ্ছৃঙ্খলদের হাত থেকে মুক্ত করে আদর্শিক নেতৃত্বের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে। তখনই বিএনপি আবারও জাতীয় রাজনীতিতে কার্যকর, গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। সংস্কারই হোক বিএনপির ভবিষ্যতের দিশা।
লেখক: মো. আরফাত ছিদ্দিক
উদ্যোক্তা | সাংবাদিক | কলামিস্ট
চেয়ারম্যান, ইছামতি গ্রুপ
প্রতিষ্ঠাতা, মরহুমা রোকসানা বেগম ফাউন্ডেশন