নিজস্ব প্রতিবেদক | দ্যা ডেইলি টাইমলাইন
আজ স্মরণীয় এক দিন—ইছামতি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফাত ছিদ্দিকীর মা, মরহুমা রোকসানা বেগম-এর মৃত্যুবার্ষিকী। মায়ের অকালমৃত্যু তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে, আর সেই শূন্যতা আজও তাকে চালিয়ে নিয়ে যায় প্রেরণা ও দায়িত্ববোধের পথে।
এই উপলক্ষে আগামী ১৪ জুলাই, রোজ সোমবার, পারিবারিকভাবে আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ মাহফিল এবং গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের বিশেষ কর্মসূচি। দিনটি উপলক্ষে থাকবে দোয়া, কোরআনখানি এবং প্রার্থনার মাধ্যমে মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা।
স্মৃতির স্তব্ধতায় এক আবেগঘন বার্তা
মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী প্রসঙ্গে মো. আরফাত ছিদ্দিকী বলেন—
“আমি শৈশবেই আমার মাকে হারিয়েছি। তখন বয়স খুবই অল্প—জীবন বোঝার আগেই আমি হারিয়ে ফেলি আমার সবচেয়ে বড় আশ্রয়কে। মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা, স্পর্শ—সব কিছু থেকেই আমি বঞ্চিত হই খুব ছোট বয়সে। কিন্তু এই না-থাকাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষায় পরিণত হয়।”
তিনি আরও বলেন—
“যখন সবাই মায়ের হাত ধরে বড় হয়, আমি তখন বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে হোঁচট খেতে খেতে উঠে দাঁড়াতে শিখেছি। মায়ের অভাব আমাকে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু সেই কষ্টই আমাকে শিখিয়েছে দায়িত্ব, সহনশীলতা আর মানুষ হবার মানে।”
“আমি আজও বিশ্বাস করি, আমার মা দূর থেকে দেখছেন—তাঁর সন্তান কীভাবে সংগ্রাম করে এগিয়ে যাচ্ছে, সমাজের জন্য কিছু করছে। তাঁর দোয়া, স্মৃতি আর শূন্যতাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
শ্রদ্ধা ও মানবিকতার প্রতীক এই আয়োজন
১৪ জুলাইয়ের এই আয়োজনে অংশ নেবেন পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠজন, পরিচিতজন এবং এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষরা। তিনি মনে করেন, শুধু দোয়া নয়—গরিবের মুখে হাসি ফোটানোই মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় দোয়া হতে পারে।
তিনি আরও বলেন—
“আজকের এই দিনে আমি স্মরণ করছি আমার প্রিয় মা, মরহুমা রোকসানা বেগমকে। তিনি নেই চোখের সামনে, কিন্তু প্রতিটি সাফল্যে, প্রতিটি দুঃখে আমি তাঁকে অনুভব করি। তাঁর শূন্যতাই আমাকে শক্ত করে তুলেছে, এবং তাঁর স্মৃতিই আমার পথচলার সাহস। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। আমিন।”
মায়ের মৃত্যুতে শোক আসে, কিন্তু সেই শোককেও যদি কেউ দায়িত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতায় রূপ দিতে পারে—তবেই তা হয়ে ওঠে এক মহৎ কাজ। মো. আরফাত ছিদ্দিকীর এই উদ্যোগ এবং অনুভব সেই বার্তাই দেয়—
“ভালোবাসা হারিয়ে যায় না, বরং ভালো কাজে রূপ নিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে।”